Oppo A18 রিভিউ

একের পর এক Oppo বাংলাদেশ স্মার্টফোন মার্কেটে চমক নিয়ে আসছে। গত মাসেই Oppo A38 স্মার্টফোনটিকে বাংলাদেশে অফিসিয়ালি লঞ্চ করেছে। আর এই মাসেই তাদের অন্য একটি নিম্ন বাজেটের একটি স্মার্টফোন Oppo A18 বাংলাদেশে অফিসিয়ালি লঞ্চ করেছে। স্মার্টফোনটির মধ্যে থাকছে হাই রিফ্রেশ রেট, গেমিং প্রসেসর, অনেক স্টোরেজ, বিশাল ব্যাটারি এর সাথে যদি হয় ওয়াটারপ্রুপ। তাই অপ্প ইতোমধ্যেই এমন একটি সেরা স্মার্টফোন নিয়ে এসেছে অপ্প। ২৬ শে নভেম্বর ২০২৩ তারিখে Oppo A18 বাংলাদেশে অফিসিয়ালি লঞ্চ করেছে।
Oppo A18 রিভিউ

স্মার্টফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১৩,৯৯০ টাকা। এই দামে স্মার্টফোনটি যেসব গ্রাহকদের অফার করতেছে তাতে এককথায় বলা চলে স্মার্টফোনটি এই রেঞ্জের মধ্যে দামে, মানে, গুনে সেরা একটি স্মার্টফোন হতে চলেছে। তবে চলুন দেখি কি কি থাকছে ফোনটিতে…

বডি ও ডিজাইন:
১৬৩.৭ মিমি লম্বা, ৭৫ মিমি চওড়া এবং ৮.২ মিমি পুরুত্বের এই মোবাইলটির ওজন মাত্র ১৮৮ গ্রাম। ফোনটা হাতে ধরতে বেশ কম্ফোর্টেবল। মোবাইলটি মোট ২টি রঙে দোকানগুলোতে পাওয়া যাবে। এই রংগুলো হল উজ্জ্বল কালো এবং উজ্জ্বল নীল। এছাড়া স্মার্টফোনটিতে রয়েছে IP54 এর ধুলা-বালি ও পানি রোধক ফিচার।

ডিসপ্লে:
স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৬.৫৬ ইঞ্চির 16M colors সাপোর্টেড একটি IPS LCD ডিসপ্লে। ডিসপ্লেটি একটি ৭২০ x ১৬১২ পিক্সেল রেজুলেশন এর একটি প্যানেল যার PPI বা “পিক্সেল পার ইঞ্চি” হল ২৬৯. ডিসপ্লে প্যানেলটি 90Hz রিফ্রেশ রেট সমর্থিত যার পিক ব্রাইটনেস হল ৭২০ নিটস। ফলে ইনডোর এ পাবেন স্মার্টফোনটি ব্যাবহারের এক অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে ডিসপ্লের টা সিম্প্লিং রেট হলো ৯০Hz।

প্রসেসর ও অপারেটিং সিস্টেম:
স্মার্টফোনটির প্রসেসিং ইউনিট বা, প্রসেসর হিসেবে রয়েছে Mediatek এর 12nm ফেব্রিকেশন এ নির্মিত Helio G85 গেমিং প্রসেসর। প্রসেসরটিতে রয়েছে সর্বোচ্চ 2.0 GHz ক্লক স্পিড। স্মার্টফোনটির অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে Android 13। এছাড়া এটির ইউজার ইন্টারফেস হিসেবে ColorOS 13.1 এর সাপোর্ট তো থাকছে, যার ফলে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স হবে দুর্দান্ত।

ক্যামেরা:
ফোনটির পিছনের দিকে রয়েছে দুটি ক্যামেরা ও একটি এলইডি লাইট এর ক্যামেরা মডিউল। উপর থেকে প্রথম ক্যামেরাটি একটি ৮মেগাপিক্সেল এর মেইন ক্যামেরা। সর্বশেষ অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যামেরাটি ২মেগাপিক্সেল রেজুলেশন এর একটি আলট্রা দেপ্ত ক্যামেরা। যার সাহায্যে আপনি সুন্দর মানের ছবি এবং সর্বোচ্চ 1080p@30fps ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। তবে মেইন ক্যামেরাটি 16 বা 32 মেগাপিক্সেলের হলে ভালো হতো।

ডিসপ্লে এর উপরের দিকে একটি টাইপ (টাইপ-ভি) সেলফি ক্যামেরা। ক্যামেরাটি ৫ মেগাপিক্সেল রেজুলেশন এর একটি আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। যার সাহায্যে আপনি সুন্দর মানের ছবি এবং সর্বোচ্চ 1080p@30fps ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন।

ব্যাটারি:
স্মার্টফোনটির পাওয়ার বা ব্যাটারি স্টোরেজ হিসেবে রয়েছে 5000 mAh (রেটেড ক্যাপাসিটি 4900 mAh) এর নন-রিমুব্যাবল ব্যাটারি। এই বিশাল ব্যাটারি স্টোরেজটিকে রিচার্জ করার জন্য রয়েছে ১০ ওয়াট এর চার্জার। যার মাধ্যমে শুন্য থেকে সম্পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগবে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট এর মতো।

স্টোরেজ:

স্মার্টফোনটি গ্লোবালি ৪জিবি+৬৪জিবি ও ৪জিবি+১২৮জিবি ভেরিয়েন্ট এ লঞ্চ হয়েছে। এছাড়া ফোনটিতে থাকছে বাইরে থেকে অতিরিক্ত স্টোরেজ যোগ করার সুযোগ। ফলে আপনার মাল্টিমিডিয়া (টেক্সট, পিকচার, অডিও, ভিডিও, ইত্যাদি) সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত স্টোরেজ রয়েছে।

সেন্সর ও সিকিউরিটি:
ফোনটিতে অ্যাক্সিলোমিটার, প্রক্সিমিটি, কম্পাস এবং লাইট সেন্সর রয়েছে। প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি ফিচার হিসেবে মোবাইলটিতে থাকছে ডিভাইসটির পাশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং এর সাথে ফোনটিতে আরো থাকছে ফেস আনলক অপশন।

নেটওয়ার্ক ও কানেক্টভিটি:
ডিভাইসটিতে রয়েছে ডুয়াল সিম (ন্যানো-সিম, ই-সিম, ডুয়াল স্ট্যান্ড-বাই)। ফোনটি ২জি, ৩জি এবং ৪জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে Wi-Fi hotspot, Bluetooth 5.3, A-GPS, OTG ও USB Type-C 2.0 এর সাপোর্ট।

দাম বা প্রাইস:
স্মার্টফোনটি বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে 4GB+128GB ভেরিয়েন্টটি ১৩,৯৯০ টাকা মুল্যে পাওয়া যাচ্ছে। দাম বিবেচনায় মোবাইলটিতে স্পেসিফিকেশনে কিছু কমতি নেই বললেই চলে। সুতরাং, দাম বিবেচনায় ফোনটি হতে পারে একটি সাধ্যের মধ্যে সেরা স্মার্টফোন।


Disclaimer: We do not guarantee that the specifications are 100% accurate. Most of the specs were collected from the official sites of each brand and some other trusted sources. If you have found any wrong information please comment below.

Post a Comment

Previous Post Next Post