স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার কারণ এবং তা সমাধানের উপায়

বর্তমানে কমবেশি সবাই আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকি। কেউ স্মার্টফোন দিয়ে গেম খেলে, ভিডিও স্ট্রিমিং করে এবং ভিডিও দেখে ইত্যাদি। স্মার্টফোন ব্যবহারে যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে তেমনি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। বর্তমানকার স্মার্টফোন কয়েক ক্যাটাগরির হয়ে থাকে। কম দামি অথবা পুরনো স্মার্টফোনে অনেক ঝামেলার শিকার হতে হয়। বারবার হ্যাং করে। 
স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার কারণ এবং তা সমাধানের উপায়

ঠিকমতো চালানো যায় না।  বিশেষ করে দরকারি কোনও কাজ করার সময় স্মার্টফোনটি কাজ করা বন্ধ করে দিলে, তার থেকে বিরক্তিকর আর কিই বা হতে পারে! আবার অনেক সময় অনলাইনে টাকা ট্রান্সফার করার ক্ষেত্রেও ফোনটি হঠাৎই হ্যাং হয়ে যায়। আপনাকেও যদি এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তবে তা থেকে এখনই মুক্তি পাবেন এই বিশেষ কিছু টিপস মেনে চললে। চলুন তাহলে সেগুলো জেনে নি- 

স্মার্টফোন কেন হ্যাং হয়

প্রথমে আমাদের জানতে হবে স্মার্ট ফোন কি কারণে হ্যাং হয়ে থাকে। মূলত স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার অনেক কারণ থাকে। স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে প্রসেসর দুর্বল হয়ে যাওয়া, রেম ম্যানেজমেন্ট সঠিকভাবে না হওয়া এবং স্টোরেজের কমতি। সাধারণত যে ধরনের ফোনের র‍্যাম কম থাকে সেই ফোনগুলাই হ্যাং করে থাকে বেশি। ফোনে আনসাপোটেড কিছু ব্যবহার করা। সেটা হতে পারে ভারী কোন অ্যাপ বা গেম।

যেভাবে হ্যাং এর হাত থেকে বাঁচবেন
১/ অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইন্সটল করুন:
স্মার্টফোন হ্যাং হওয়ার পেছনে অ্যাপসই প্রধান কারণ। আপনি প্রয়োজনে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ইন্সটল করেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই অ্যাপের কোন ব্যবহার করেন না। আবার ফোনে অনেক ধরনের অ্যাপ রেখে দেন যেগুলি কখনওই ব্যবহার করেন না, সেক্ষেত্রে আপনার স্মার্টফোনটির স্টোরেজ ক্ষমতা কমে যায় এবং ক্রমাগত হ্যাং হতে থাকে। তাই যে অ্যাপগুলি আপনি একেবারেই ব্যবহার করেন না, সেগুলিকে আনইন্সটল করে ফেলুন। এতে আপনার ফোনের হ্যাং হওয়ার সমস্যা কিছুটা মিটে যাবে।

২/ ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি অ্যাপ চালু না রাখা
একাধিক অ্যাপ যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে তবেও কিন্তু ব্যাটারির চার্জ ক্ষয় হওয়ার পাশাপাশি ফোন হ্যাং হতে পারে। তাই, একটি অ্যাপ ব্যবহার করার পর যখন সেটি বন্ধ করে দেবেন, তখন ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেও ট্যাবটি রিমুভ করতে ভুলবেন না যেন। এমনটা করলে আপনার ফোনের পারফরম্যান্স খানিকটা হলেও উন্নত হবে। বিশেষ করে আপনার ফোনটি যদি কম রেম এর ফোন হয়ে থাকে।

৩/ স্টোরেজ খালি রাখুন
আমাদের ফোনের স্টোরেজ যাই হোক না কেন সেটা হতে পারে 64GB, 128GB 123GB। স্টোরেজ গুলোর মধ্যে আপনাক ৫০% স্টোরেজ ফাঁকা রাখতে হবে। যদি এই 50% স্টোরেজ ফাঁকা রাখা সম্ভব না হয়, আপনি যতটুকু পারেন ততটুকু স্টোরেজ খালি রাখুন। তবে সব সময় চেষ্টা করবে স্টোরেজ বেশি খালি রাখার।

৪/ থ্রিডি ওয়ালপেপার ব্যবহার না করা
বর্তমানে থ্রিডি ওয়ালপেপার বেশি পরিমাণে ব্যবহার হয়ে থাকে ফোনে। অনেক সময় স্মার্টফোনে থ্রিডি ওয়ালপেপার ব্য়বহার করেন, যা ফোনকে স্লো করে দেয়। দীর্ঘ সময় ফোনে থ্রিডি ওয়ালপেপার সেট থাকলে, ফোন হ্যাং করতে পারে। তাই ফোনে থ্রিডি ওয়ালপেপার রাখবেন না। তার পরিবর্তে ওয়ালপেপারে কোনও ছবি ব্যবহার করুন।

৫/ আনসাপোর্টেড গেম না খেলা
অনেক ফোন শুধুমাত্র গেইমস খেলার সময় হেং করে থাকে। এটি আসলে আপনার ফোনের সমস্যা না। এটি আপনার জানার সমস্যা। আপনার ফোনের রেম যদি দুই বা তিন জিবি হয়ে থাকে এবং সেই ফোন দিয়ে আপনি pubg এবং ফ্রি ফায়ারের মতো গেমগুলো খেলেন তাহলে তো ফোন হ্যাং করবেই। আপনি যে গেইমটি খেলছেন সেই গেইমস আপনার ফোনের জন্য উপযুক্ত নয়।

৬/ ফোনের কিছু সেটিং
স্মার্টফোন যাতে হ্যাং না হয় বা কম হয় সেজন্য ফোনে কিছু সেটিং রয়েছে। এই সেটিংটি আপনি ডেভলপার অপশনের উইন্ডোজ এনিমেশন স্কেলে পাবেন। কিন্তু এই সেটিংগুলো ঠিক তখনই কাজে লাগবে যখন আপনি জানতে পারবেন ফোনটি কেমন ব্যবহার করেন।

সর্বশেষ
ফোন হ্যাং এর বিষয়টা সম্পূর্ণ ফোনের ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। আপনি যে ফোন ব্যাবহার করছেন সেটিতে কতগুলো এপ্স রান করাচ্ছেন সেটি আপনিই জানেন। সুতরাং ফোনে র‍্যাম যত বেশিই হোকনা কেন, সবসময় চেস্টা করবেন ফোনে যাতে যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা ফাঁকা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় এপ্লিকেশন না থাকে। আশা করি ফোন হ্যাং থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাবেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post